ফেরত আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক এর ২৫ বিলিয়ন ডলার!
গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই পাচারকৃত অর্থ ফেরাতে জোরালো পদক্ষেপ নিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। সম্প্রতি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশ ব্যাংক ১১টি প্রভাবশালী পরিবারের বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে, যাদের বিরুদ্ধে বিদেশে কোটি কোটি ডলার পাচারের অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, একটি পরিবারই প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে, যার ফলে সংশ্লিষ্ট একটি ব্যাংক দেউলিয়ার মুখে পড়েছে, কারণ তাদের উত্তোলিত অর্থ ব্যাংকটির মোট আমানতের ৯০%।
গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান, পাচারকৃত অর্থের বড় অংশ যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে লন্ডনে বাংলাদেশি প্রভাবশালীদের বিপুল সম্পদ রয়েছে। এসব অর্থ ফেরত আনতে বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে ব্রিটিশ সরকার, কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইনি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে।
আল জাজিরার আগের এক তদন্তে উঠে আসে যে, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার পরিবারের লন্ডন ও দুবাইয়ে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ রয়েছে। শুধু লন্ডনেই তাদের মালিকানায় ৩৬০টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে বলে জানা গেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে তার ৪০টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে এবং তাকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তবে সাইফুজ্জামান এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন এবং জানিয়েছেন যে, তার সম্পদ বৈধ উপায়ে অর্জিত।
গভর্নর আহসান এইচ মনসুর আরও জানান, শুধু পাচারকারীদের নয়, বরং তাদের সহযোগী আইনজীবী, ব্যাংকার ও রিয়েল এস্টেট এজেন্টদেরও তদন্তের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, “অপরাধীদের সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রশাসনের পরিবর্তনের পর এই তদন্তে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। ইউএসএআইডি’র তহবিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে তদন্তকারী মার্কিন সংস্থাগুলোর কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। গভর্নর এটিকে “দুর্ভাগ্যজনক” বলে উল্লেখ করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার কৌশল হিসেবে সহযোগীদের সঙ্গে দর-কষাকষির মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ এবং সাধারণ ক্ষমার বিষয়টিও বিবেচনা করছে। তবে পুরো অর্থ পুনরুদ্ধার করতে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগ ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আইনি জটিলতা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ঘাটতি এবং দীর্ঘসূত্রতা এই প্রক্রিয়ার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সফল হলে এটি দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।
